স্টোনহেঞ্জ

হাজার বছরের স্টোনহেঞ্জ

হাজার বছর ধরে পৃথিবীর অত্যাশ্চর্য হয়ে আছে স্টোনহেঞ্জ । কয়েকখন্ড পাথরের এই বিন্যাস পৃথিবীর সেরা রহস্যের একটি । ওয়িল্টসিয়ারের প্রায় আট মাইল উত্তরে সেলিবরিওতে এর অবস্থান । প্রতিবছর এখানে প্রায় ১০ লাখ দর্শনার্থী ছুটে আসেন এই রহস্যময় দাঁড়ানো পাথরগুলো দেখতে । গবেষকরা দাবি করেন এটি প্রায় ৫হাজার বছর আগের প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ।

আজও এর নির্মাণের উদ্দেশ্য রহস্যময় । অনেকগুলো পুরনো হাড়ের অস্তিত্ব এটাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার একটি মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করে । এসব হাড়ের মাধ্যমে জানা যায় , এটি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ২৫০০ অব্দে নির্মিত হয়েছিলো । প্রফেসর টিম ডারভিলের মতে এই স্তম্ভের মাঝে মাঝে যেসব নীল প্রস্তর খণ্ড রয়েছে এদের কারনে দূর্বল, অসুস্থ লোকেরা আসত তাদের পরিশুদ্ধ, সুস্থতা কামনার জন্য । কারন তাদের ধারণা ছিলো- এইসব পাথরের জাদুকরী ক্ষমতা আছে ।

তবে পার্কার পিয়ারসনের মতে একটি সর্বজনীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এখানে সম্পন্ন হতো । যেখানে ব্রিটিশরা একত্রিত হতো যা ব্রিটিশদের মাঝে খুবই দূর্লভ ।

স্টোনহেন্জ সম্পর্কে আরো জানুন

তাদের ধারণা ব্রিটিশদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিস্তম্ভ এটি । যার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে তারা জড়ো হতো এখানে । ধারনা করা হয় এখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ভেতরের দিকে ১১০মিটার গভীর একটি গোলাকার খাল ছিলো । উত্তর-পূর্ব দিকে এর একটি ও দক্ষিণের দিকে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রবেশ পথ আছে এখানে । এটি সামান্য ঢালু জমির ওপর অবস্থিত । খালের তলদেশে হরিণ , ষাঁড়ের হাড় ও কিছু চমকি পাথর পাওয়া যায় । পরীক্ষা করে জানা যায়, খাল খননে যে হরিণের শৃঙ্গ ব্যবহার করা হয় তার চেয়ে এই হাড়গুলো পুরনো । কালের পরিক্রমায় খালের তীরের আশপাশের মাটি থেকে পলি জমতে শুরু করে । খালের চারদিকে ৫৬টি ছোট গর্ত ছিলো । ধারনা করা হয় এগুলিতে গাছের গুঁড়ি খাড়া করে বসানো হয় । এতে করে অনেকটা গোলাকার গাছের সাড়ি তৈরি হয় । দক্ষিণ দিকে কয়েকটা সমান্তরালে গর্তে বসানো হয় । সম্প্রতি এটিকে সমাধিস্থল হিসেবেই বেশী প্রাধাণ্য দেওয়া হয় । তবে সে যাই হোক গবেষণা এখনো চলছে । এই দাঁড়ানো পাথরগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন তুলে রেখেছে যার সমাধান আজও মিলে নি ।

Writer : Md. Shaiokh Sahariar Haque

For Inquiry : Contact us.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *